চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে একটি শিপইয়ার্ডে এলএনজিবাহী জাহাজ ভাঙার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে সাত শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ভাটিয়ারীর ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি জাহাজভাঙা কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—সেকান্দর মিয়ার দুই ছেলে মোহাম্মদ নাসির (৪৭) ও মোহাম্মদ মনসুর (৫৫)।

কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, শিপইয়ার্ডে পুরোনো একটি এলএনজিবাহী জাহাজ ভাঙার কাজ চলছিল। এ সময় কয়েকজন শ্রমিক জাহাজের ভেতরের একটি বদ্ধ কক্ষে নামেন। সেখানে বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় অন্যদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

দুপুর দেড়টার দিকে সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও পাঁচজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার পর শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের খবর সঠিক নয়। বিষাক্ত গ্যাস লিকেজ থেকেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ফেরদৌস ওয়াহিদ বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার পর শিপইয়ার্ড এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।